BTCL ইন্টারনেট – সব প্রশ্ন-উত্তর

বিটিসিএল কি কি প্যাকেজ অফার করে?

কিভাবে তাদের সংযোগের জন্য আবেদন করতে হয়?

আমার কাছে রাউটার আছে। সেটা কি ব্যবহার করতে পারব?

তাদের সেবার মান কেমন?

গ্রাহকদের উন্নত ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে মাসিক মূল্য অপরিবর্তিত রেখে সব বিদ্যমান ইন্টারনেট প্যাকেজে স্পীড তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। নতুন এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকেরা একই খরচে আগের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাবেন।

একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করব। আমার মতামত এবং বিশ্লেষণের সাথে আপনার মতামত নাও মিলতে পারে

উল্লেখ্য প্রথমে তারা শুধুমাত্র ক্যাশ স্পীড বাড়ালেও এই মুহুর্তে তারা Raw Speed ও বাড়িয়ে দিয়েছে। বলা যায়, বর্তমান সরকার থেকে পাওয়া অন্যতম সেরা একটা উপহার আমরা বিটিসিএল এর মাধ্যেমে পেলাম

(১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬ টার দিকে)

বিটিসিএল কি কি প্যাকেজ অফার করে?

প্রথমত বিটিসিএল টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং টেলিফোন+ইন্টারনেট এর সেবা প্রদান করে থাকে। আপনি যদি শুধুমাত্র ইন্টারনেট এর সংযোগ নিতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে ন্যূনতম SHASHROYI-20 (Prepaid) সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে, যার মাসিক মূল্য ৩৯৯ টাকা থেকে শুরু। এছাড়া SHASHROYI-50 (Prepaid) এর মাসিক মূল্য ৮০০ টাকা, SHASHROYI-100 (Prepaid) এর মাসিক মূল্য ১০৫০ টাকা। SHASHROYI-20, SHASHROYI-50 এবং SHASHROYI-100 এ আপনি যথাক্রমে ২০, ৫০ এবং ১০০ এমবিপিএস স্পীড পাবেন বলে আশা করতে পারেন। এভাবে আরো অনেক প্যাকেজ আছে।

উপরের ছবিতে ১১ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে BTCL এর কিছু প্যাকেজের ছবি দেয়া হলো। উল্লেখ্য আপনি যদি টেলিফোন+ইন্টারনেটের সংযোগ নেন, তাহলে খরচ কিছুটা বাড়বে, যা তাদের ওয়েবসাইটেই দেয়া আছে।

আপনি সামান্য বেশি খরচ করতে পারলে আমার মতে টেলিফোন+ইন্টারনেট সংযোগের আবেদন করা উচিত। কারণ এক্ষেত্রে আপনি মোবাইল অপারেটরদের থেকে কম মূল্যে BTCL to Mobile এ কথা বলতে পারবেন। এছাড়া বিটিসিএল থেকে বিটিসিএল ফ্রি। এজন্য প্রতিমাসে আপনাকে ১০০ টাকার মত বেশি গুণতে হবে। উল্লেখ্য এই টেলিফোন সংযোগটা অনেকটা আইপি ফোনের মতই। রাউটার থেকেই টেলিফোনের সংযোগ দেয়া হয়। ইন্টারন্যাশনাল কল ব্লকড। টেলিফোন সেট আপনাকে বাইরে থেকে কিনে নিতে হবে।

প্রিপেইড নাকি পোস্টপেইডঃ

আমার কাছে প্রিপেইড কানেকশনটাই ভালো বলে মনে হয়। কারণ আপনি দুই এক মাস ব্যবহার না করতে চাইলে রিচার্জ করবেন না। আবার যখন চাইবেন ব্যবহার করতে, রিচার্জ করে নিবেন। কিন্তু পোস্টপেইডে আপনি ব্যবহার করেন আর নাই করেন, প্রতিমাসে আপনাকে বিল দিতেই হবে।

কিভাবে তাদের সংযোগের জন্য আবেদন করতে হয়?

বিটিসিএল এর সংযোগের আবেদন করতে হলে তাদের Telesheba Apps এর মাধ্যেমে আবেদন করতে হবে। Google play store/ App Store থেকে আপনাকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। এছাড়া ও তাদের ওয়েবসাইটঃ https://mybtcl.btcl.gov.bd/login এর মাধ্যেমে ও আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার পরে বিটিসিএল থেকেই আপনাকে ফোন করে জানিয়ে দেয়া হবে, আপনার লোকেশনে কানেকশন দেয়া সম্ভব কিনা, এবং কানেকশন দেয়া গেলে কত টাকা লাগবে। আপনি আবেদন করার ৭ দিনের মধ্যে তারা যোগাযোগ না করলে অফিসে যোগাযোগ করলে দ্রুত হতে পারে।

বর্তমান সময়ে নতুন কানেকশন নিতে কমবেশি ১,৫০০-৩৫০০ টাকা লাগতে পারে, এটা ধরে আবেদন করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে অফারের কারণে, এবং প্যাকেজের কারণে কম-বেশি হতে পারে। খরচ যাই লাগুক, ডিমান্ড নোটের মাধ্যমে সেটা প্রদান করতে হবে। এর বাইরে কোন হিডেন চার্জ নাই। কেউ কোন অতিরিক্ত টাকা দাবী করলে আপনি চাইলে বিটিসিএল এর অফিসে গিয়ে অভিযোগ করলে তারা সেটা সমাধান করে দিবেন।  

আমার কাছে রাউটার আছে, সেটা কি ব্যবহার করতে পারব?

জ্বি না, আপনার রাউটার আপনি অন্তত মেইন রাউটার হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন না। বিটিসিএল যে সব রাউটার দিয়ে থাকে, সেগুলির সাথে অণু বিল্টইন থাকে, সেটা দিয়েই আপনাকে কানেকশন নিতে হবে। চাইলে তাদের দেয়া রাউটারের সাথে আপনার রাউটার সেকেন্ডারি রাউটার হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ফেস করায় আমি সেটা খুলে ফেলেছিলাম। চেষ্টা করবেন ডুয়েল ব্যান্ডের রাউটার নেয়ার।

ডুয়েল ব্যান্ডের রাইটার না দিলে সেই সংযোগ না নেয়াটাই আমার মতে ভালো হবে। এছাড়া বিটিসিএল যেই রাউটার দিবে, তার মালিক কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বিটিসিএল। আপনি ব্যবহার না করলে তারা সেটা ফেরত নিয়ে যাবে। তবে কিছু প্যাকেজে রাউটারের মালিকানা আপনার।

তাদের সেবার মান কেমন?

তাদের সেবার মান আমার কাছে যথেষ্ট ভালো বলে মনে হয়েছে, যদি ও লোকেশন ভেদে এই মানের তারতম্য হতে পারে। যে কোন সমস্যায় অ্যাপের মাধ্যেমে অভিযোগ জানালে সরাসরি একজন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ চলে যায়, এবং তিনি সমাধানের পদক্ষেপ দেন।

তাদের সেবার মানের ক্ষেত্রে আমার কাছে কিছু বিষয় অসুবিধাজনক ও মনে হয়েছে।

প্রথমত, তাদের সংযোগে নিজের ইচ্ছামত রাউটার ব্যবহার করা যায় না। তাদের ZTE মডেলের ডুয়েল ব্যান্ডের রাউটারটা মোটামুটি ভালো। অন্যান্য রাউটার গুলি একেবারে নিম্নমানের। ৩-৫ হাজার টাকায় বাজারে যেসব Tplink এর রাউটার পাওয়া যায়, সেসব রাউটারের মান, কভারেজ, ফিচার এবং পারফরম্যান্স বিটিসিএল এর যে কোন রাউটার থেকে অনেক গুণে ভালো। যদিও বিটিসিএল তাদের দেয়া রাউটারের সাথে সেকেন্ডারি রাউটার লাগানোর অনুমতি দিয়ে থাকে। তবে আমার কাছে এটা ঝামেলাজনক মনে হয়েছে। এছাড়া সেকেন্ডারি রাউটার লাগানোর পরে আমি কিছু সমস্যা ও ফেস করেছিলাম। যেমনঃ ব্যাংকিং অ্যাপস গুলি কাজ কর‍ত না, এবং তারা সেই সমস্যা সমাধান করতে না পারায় আমি সেকেন্ডারি রাউটার খুলে রেখেছি।

দ্বিতীয়ত, ফাইবার কাটা পড়লে ১-৩ দিন বা আরো বেশি সময় ও লাগতে পারে এটা আবার ফিক্স করতে, বিশেষ করে সেটা যদি বৃহস্পতিবার বা কোন ছুটির দিনে হয়। যদিও তাদের লাইনে সচরাচর সমস্যা হয় না।

তৃতীয়ত, তাদের স্পীড মোটামুটি স্ট্যাবল বলা যায়। পিক এবং অফপিক আওয়ারে আগের মত একই স্পীড পাওয়া যায় না, যেটা শেয়ারড যেকোন কানেকশনের জন্যই প্রযোজ্য। তারপরে ও বাংলাদেশের বেশিরভাগ আইএসপি থেকে BTCL এর স্পীড স্ট্যাবল, এটা অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।

চতুর্থত, প্যাকেজ পরিবর্তন করাটা আমার কাছে ঝামেলাজনক মনে হয়েছে। অ্যাপ থেকে অনুরোধ জানালে তারা প্যাকেজ পরিবর্তন না করেই টিকিট ক্লোজ করে দিয়েছে আমার। হেল্পলাইনে ফোন করলে বলে অফিসে যেতে, যেটা আজকের দিনে কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

পঞ্চমত, বিটিসিএল এর কানেকশন নেয়া থেকে শুরু করে প্রায় সকল পর্যায়ে আপনি শিক্ষিত মানুষজনদের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করবেন, যেটা বেশিরভাগ প্রাইভেট আইএসপির ক্ষেত্রে এটা পাবেন না, অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। এটা ও বিটিসিএল এর একটা পজিটিভ দিক।

আরেকটা কথা না বললেই না, যেটা অসুবিধার সাইডে পড়ে। BTCL এ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট ওপেন হয় না। সেক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করতে বলে অনেকে।

তাহলে আপনি কি বিটিসিএল এর কানেকশন নিবেন কিনা?

আপনার লোকেশনে এ বিটিসিএল এর কভারেজ থাকলে অবশ্যই নিতে পারেন। BTCL প্রথমে শুধু ক্যাশ স্পীড বাড়িয়েছিল। কিন্তু যেই মুহূর্ত থেকে তারা মূল স্পীড বাড়িয়ে দিয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকেই তারা এখন প্রাইভেট আইএসপি কোম্পানি গুলির থেকে কোন অংশেই পিছিয়ে থাকবে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে। যদিও তাদের নিজস্ব রাউটার ব্যবহার করার যে বাধ্যবাধকতা, সেই সীমাবদ্ধতা এখন ও থাকছেই। আবার প্রাইভেট আইএসপি গুলি যেখানে ২ ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যে কোন সমস্যার সমাধান করে দেয়, বিটিসিএল সেক্ষেত্রে ১-৩ দিন পর্যন্ত নিয়ে থাকে। অনেক ওয়েবসাইট বিটিসিএল এ ওপেন হয় না। তবে আপনি একজন সাধারণ ইউজার হলে এটা নিয়ে তেমন সমস্যা ফেস করবেন না।

উল্লেখ্য যে, এলাকাভেদে এই সার্ভিসের মানের তারতম্য হতে পারে। এটা আরো ভালো বা খারাপ ও হতে পারে।

আমার এলাকায় এতদিন একই মুল্যে বিটিসিএল এর থেকে উচ্চ গতির ইন্টারনেট থাকার পরে ও আমি সেকেন্ডারি বা ব্যাকআপ লাইন হিসাবে বিটিসিএল এর ইন্টারনেট ব্যবহার করেছি কিছু কারণে। যেমনঃ এই লাইনে সমস্যা হয় না বললেই চলে। সর্বোপরি সরকারী সেবা গ্রহণ করার ইচ্ছা থেকে। স্পীড বাড়ানোর পরে প্রাইমারী লাইন হিসাবে ও ব্যবহার করা সম্ভব এখন। অথবা প্যাকেজ আপগ্রেড করে আরো ভালো স্পীড পাওয়া সম্ভব।

কাজেই BTCL এর কানেকশন নিবেন কিনা, এটা আপনার অবস্থান, ইচ্ছা এবং প্রয়োজনের উপরে নির্ভর করে।

আপডেটঃ বিটিসিএল ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়তে ও আমাকে বেশ হয়রানির স্বীকার হতে হয়েছিল, যা হয়ত পরে কখন ও শেয়ার করব। মুলত আমার সার্কেলের লাইনম্যানের হয়রানির কারণেই ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। বিটিসিএল এর গলার কাঁটা যদি কিছু থাকে, তাহলে এই অসৎ কিছু লাইনম্যান, যারা ইন্টারনেট সেবাকে টেলিফোন সেবার সাথে গুলিয়ে বসে আছে। সেই টেলিফোন যুগের মত হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবী তারা করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *